Search

অনুবাদ সাহিত্যে তাপস গুপ্ত -৪


ল্যাটিন আমেরিকার কয়েকটি কবিতার অনুবাদ এবং অনুবাদ সংক্রান্ত দু চার কথা:-- পর্ব ৪

পর্ব: ৪


জিভাগোর কবির অনুবাদ প্রসঙ্গে বুদ্ধদেব বসু বলেছিলেন, কবিতার সার বস্তু যত বেশি থাকে ততই অনুবাদ তাকে কম জখম করতে পারে।।


ল্যাটিন আমেরিকার অনুবাদিত কবিতার এই যে ধারাবাহিক পর্ব সম্পাদকের প্রশ্রয়ে এগিয়ে নিয়ে চলেছি, বলাই বাহুল্য যে এগুলি অনুবাদের অনুবাদ। মূল থেকে অনুবাদ নয়। স্প্যানিশ থেকে ইংরেজি এবং ইংরেজি থেকে এগুলির অনুবাদ বা ভাবানুবাদের একটা প্রয়াস মাত্র।




এক্ষেত্রে আমি দ্বিধাহীন এবং নির্লজ্জ। তাই সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় কে উদ্ধৃত করে বলা যায়,"মূল ভাষা না জেনে অনুবাদ করার প্রচেষ্টা, গুরুতর ধৃষ্টতা বা অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। কিন্তু এজন্য আমি নিজেকে অপরাধী হিসেবে মনে করি না, তার প্রথম ছোট কারণ, শব্দের সৌকুমার্য যখন ভাষান্তরিত করা অসম্ভব,তখন মূল ভাষা জানার প্রশ্ন জরুরি নয়; দ্বিতীয়ত, আমার আগে এই ধরনের অনুবাদের কাজ বাংলাদেশে করেছেন আরও অন্তত পঞ্চাশ জন(এখন এই সংখ্যা অনেক বেশি) কবি,যাঁদের শিরোভাগে আছেন স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ।"

এই অনুবাদের অনুবাদ কবিতার তৃতীয় জন্ম।অনুবাদের পরম্পরা গত ইতিহাস থেকে দু একটি তথ্যের উদাহরণ টেনে বলা যায় দ্বিতীয় শ্রেষ্ঠ না তৃতীয় এই শুকনো বিতর্কে না উস্কে অনুবাদের অন্তরভাষ্য পাঠক কে স্পন্দিত করতে পারল কিনা সেটাই বিচার্য হওয়া বাঞ্ছনীয়। প্রথম পর্বে উল্লেখ করেছি অনুবাদ কবিতা এক অন্য বস্তু, তার আলাদা এবং স্বতন্ত্র এক সত্তা বা চরিত্র তৈরি হয়। " শকুন্তলা" পাঠের পর গ্যেটের উচ্ছ্বাস স্তোত্র আমাদের জানা, কিন্তু এটাও জেনে রাখা প্রয়োজন গ্যেটে এটি পড়েছিলেন জার্মান ভাষায়। শকুন্তলার ইংরেজি অনুবাদ করেছিলেন উইলিয়াম জোন্স আর ওখান থেকে জার্মান ভাষায় অনুবাদ করেন

গেঅর্গ ফর্স্টার।অর্থাৎ জার্মান ভাষায় শকুন্তলার "তৃতীয় জন্ম "পড়েছিলেন গ্যেটে। রবীন্দ্রনাথ কে হিস্পানি ভাষায় অনুবাদ করেছিলেন হিমেনেথ।সে অনুবাদ অনুবাদ ইংরেজি থেকে।এই হিস্পানি ভাষায় রবীন্দ্র নাথ কে পড়ে মুগ্ধ নেরুদা লিখলেন " তুমি সন্ধ্যার মেঘ শান্ত সুদূর।" নেরুদার ইংরেজি অনুবাদ করলেন ডব্লু. এস.মেরুইন, সেখান থেকে শক্তি চট্টোপাধ্যায় অনুবাদ করলেন " আমার আকাশে গুধুলি বেলায়"।

এবার অনুবাদে রাখলাম পুয়েরতো রিকোর কবি জুলিয়া ডি বার্গোস এর কবিতা "Poem Detained in a Daybreak" । কবি সম্পর্কিত আলোচনা পরের পর্বে । নামকরণ করেছি " বিলম্বিত ভোরের নিরুদ্ধ কবিতা"



No one.

I went alone.

No one.

Painting the daybreaks with my only color of solitude.


Repeating myself in all the desperations.

Silencing within me the scream of looking for you.

Adding ideals to myself in each broken truth.

Wounding the blossoms with my sorrow of lifting you.


Oh, disappeared one!

How I grafted my should in the blue to find you!


And thus, crazy, gazing upwards,

boiling my eyes in the reddest light to attain you

how I followed the fleeing of my most avid emotion

through the hospitable twilight golds!


Until one morning…

one night…

one evening…

I was left like a curled-up dove,

and I found my eyes through your blood.


Daybreaks of Gods

marvelously awoke my valleys.

Take offs!

Riverbeds!

Swallows! Stars!

Hard and agile dawns!


Everything in you:

Savage sun!


And I?

—A simple truth to love you…


বিলম্বিত ভোরের নিরুদ্ধ কবিতা

জুলিয়া ডি বার্গোস


কেউ না, কেউ নেই

শুধু নিঃসঙ্গ গমন

বিবস্বান ভোর অস্ফুট বিজন

ক্যানভাস তবু রঙিন কেমন

নির্জন শূন্যের একক অঙ্কন।


পুনরায় নাছোড় আমার

অন্তহীন প্রত্যাশা প্রতীক্ষার

প্রতিবারই বিদীর্ণ ধার্য কল্পনা,

বিকশিত মুকুল আহত প্রস্ফুটনে

আর্তনাদ শুধু যোজিত হয় তোমার বিহনে,

নাভিস্থল ঠেলে ওঠে সাবিত্রী বিষাদ

বাঁচো তুমি সত্যবান এ উত্তোলনে।

আস্ত উবে যাওয়া এক বিপর্যিত বিস্ময়

কিভাবে জোড়কলমে সার্থক হবে বন্ধন

অদৃশ্য তোমার দেহস্থির সংযোজন!



এভাবেই জ্বলন্ত চোখের ঊর্ধ্বে ছোঁড়া স্থির আগুন

অর্জিত হবে তুমি গলনাঙ্কে,

অনুসৃত হবে আমার শাসন

ধাবমান উচ্ছ্বাস ক্ষুদিত চেতনার

সাতিথ্য পাবে গোধূলি আদ্যন্ত হিরণে!


যতক্ষণ না এক সকাল….

যতক্ষণ না এক তমসা….

যতক্ষণ না এক সন্ধ্যালোক….

ভূলুণ্ঠিত ছিলাম কুঁকড়ে যাওয়া

পায়রার মত লজ্জায়,

এবং তখনই নির্মিত নির্মাণ

চক্ষু দর্শন তোমারই রক্ত কণিকায়।


ভোরের আলোক কুসুম

বিস্ময়াবিষ্ট বীতনিদ্র সত্ত্বা গিরিখাত

অপসৃত নদীগর্ভের নক্ষত্র গ্রাস,

তৎপর কঠিন কর্মচঞ্চল

সাবলীল ভোরের সকাল!


তোমায় পাই আদি অন্ত অনন্তে

সূর্যের মত বর্বর বন্য আদিমে,

এবং আমি?

ভালোবাসি তোমায় সরল অকপট সত্যে….


17 views0 comments