Search

ছোটগল্প ( অল্প কথার গল্পে ) সাত্যকী বসু


শেষ থেকে শুরু


সাত্যকী বসু


একটি প্রাণবন্ত মেয়ের নাম পর্ণা, কলকাতার একটি সম্ভ্রান্ত মহিলা কলেজের ছাত্রী হলেও পর্ণা ভীষন মিশুকে।

যেমন পর্ণা অসামান্য সুন্দরী তেমনি গুণী।

ঝকঝকে আঁকার হাত, আর তার খুব কাছের মানুষ যারা তারাই কেবল জানে তার রান্নার হাতটি কত চমৎকার।

পর্ণা তবে যে কলকাতারই মেয়ে এমনটা নয় কলকাতা লাগোয়া একটা মফঃস্বলের মেয়ে মানে যেখানকার পিনকোড বাইরে রাজ্যের কাউকে দেখালে আমি কলকতাবাসী তা অনায়াসেই প্রমাণ করে দেওয়া যাবে।

পর্ণার এখন ফাস্ট ইয়ার, সাহিত্যের ছাত্রী । প্রথম বর্ষে যেমন ছেলে মেয়েদের ডানা গজায় তেমন পর্ণারও একটু গজিয়েছে বইকি !

রোজকার মতো কলেজের ক্যান্টিনে আড্ডা মারতে মারতে নোটিফিকেশন টোনে সম্বিৎ ফিরলো পর্ণার । স্ক্রিনটা অন করে পর্ণা দেখলো একজন ফেসবুকে বন্ধুত্বের অনুরোধ করেছে নাম কৌশিক চক্রবর্তী (ডেভিড) ।

পর্ণা সাধারণত কোনো ছেলের বন্ধুত্বের অনুরোধ গ্রহণ করে না । সদ্য কলেজে ওঠা তরুণী জন্মানো নারীবাদী বিশ্বাস নিয়ে চলা একটা সতেজ প্রাণ তাই সে যে কোনো পুরুষের বন্ধুত্বের অনুরোধ ডিলিট করে দিয়ে তাকে ফলোয়ার লিস্টে রাখতেই পছন্দ করে । কিন্তু এই কৌশিক চক্রবর্তীর অনুরোধ দেখে সে এই প্রথম তার প্রোফাইলটা ভিজিট করলো। বেশ হ্যান্ডসাম ছেলেটি, ফর্সা রঙ,গালে চাপ দাড়ি আর চেক জামায় লম্বা চওড়া ছেলেটি বেশ আকর্ষণীয়।

পর্ণার চাউমিনের প্লেটে কাঁটা চামচ নাড়াতে নাড়াতে কিছুটা সময় ভাবলো ।

খানিকটা পরে সে গ্রহণ করে নিল কৌশিক চক্রবর্তী ওরফে ডেভিডের বন্ধুত্বের অনুরোধ।

এরপর আর সেভাবে সেদিকে কোনো নজর থাকলো না পর্ণার, কলেজের ক্লাসগুলো করে নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে প্রতিদিনের মতো সে বাড়ি ফিরে এসে রূপচর্চায় ব্যাস্ত হয়ে পড়লো।




পর্ণার এই একটা শখ রূপচর্চা। নিজের রূপের প্রতি যত্নশীল প্রত্যেকেই তবে পর্ণা একটু বেশিই । নিজের ত্বককে চকচকে রাখতে ও আকর্ষণীয় করে রাখতে পর্ণার জুড়ি মেলা ভার।

পর্ণার চরিত্র যেমন নান্দনিক তেমনিই রুক্ষ । একঝলকে যে কোনো কেউ দেখলে পর্ণাকে মনে হবে,

-ছিঃ এটা আবার মেয়ে নাকি !

কিন্তু তাকে যদি পর্ণা একটুও মেশার সুযোগ দেয় পর্ণার চরিত্রের আরেকটা দিক বুঝতে পেরে তার মনে হবেই হবে,

- এই তো এই একেই আমি চেয়েছিলাম আমার সঙ্গিনী হিসাবে !

পর্ণা এমনিই নরমে গরমে মেশানো এক আশ্চর্য্য মুখরিত চরিত্র।


আর কিছুক্ষণ পরে পর্ণার টিউশন, তাই সে নখের ওপর নেলপালিশের শেষ টানটা দিতে দিতে যখন বিভোর, ফোনের নোটিফিকেশন টোনটা বেজে উঠলো।

পর্ণা একঝলক দেখে নিলো, কৌশিক চক্রবর্তীর মেসেজ !

রাস্তায় আসতে আসতে ক্যান্টিনের ছোট্ট ঘটনাটার কথা পর্ণা ভুলে গিয়েছিল।

কৌশিক চক্রবর্তী নামটা দেখে তার মনে পড়লো, চোখের সামনে ভেসে উঠলো ছেলেটির সুঠাম শরীর।

পর্ণা এক মুহূর্তের জন্য এও স্থির করে ফেললো ছেলেটিকে উত্তর দিয়েই ফেলি। কিন্তু পর্ণা থেমে গেল। নোটিফিকেশন বার যেমন ডেভিডের মেসেজ শো করছে ঠিক তেমনই লক স্ক্রিনের ডিজিটাল ঘড়ি পর্ণাকে নির্দেশ করছে এখন সময় পাঁচটা পনেরো। এই মুহূর্তে যদি সে বাড়ি থেকে না বেরোয় তবে সে সাড়ে পাঁচটার অটোটা মিস করবে আর তার টিউশন ক্লাসে পৌঁছাতে অনেকটা দেরি হবে তাই ফোনের লক স্ক্রিনটা অফ করে ড্রেস চেঞ্জ করে মাকে টাটা জানিয়ে পর্ণা রাস্তায় বেরোলো।

টিউশন ক্লাসটাও রোজকার মতোই কাটলো পর্ণার। টিউশন ক্লাস শেষ করে যখন পর্ণা বাড়ি ফিরলো তখন প্রায় সাড়ে আটটা।



একটু ফ্রেশ হয়ে রাতের খাবার খাওয়ার আগে পর্ণা এই সময়টা একটু সোশ্যাল মিডিয়াতে সময় কাটায়।

তবে পর্ণা আর চার-পাঁচটা মেয়ের মতো এর ওর সাথে আজেবাজে বকে সময় নষ্ট করে এমনটা নয়, তার কাজ মিমগুলো share করা আর যদি কোনো বন্ধুর ফোন আসে সেই ফোনটা ধরে ঘন্টাখানেক ভজ ভজ করে বকা।

কিন্তু আজ সে যখন ফোনটা নিয়ে অন্ধকার ঘরে বিছানায় ঠেস দিয়ে বসে স্ক্রিনটা অন করলো তখন সে দেখলো,

-আবার একটা মেসেজ ! কৌশিক চক্রবর্তী ওরফে ডেভিড।

এবার পর্ণা আর এড়িয়ে গেল না, সে রিপ্লাই করলো,

- হাই !

এই হাই পর্ণার নান্দনিক জীবনের শেষের শুরু করলো এই অন্ধকার ঘরে পর্ণা টেরও পেলো না।


( ক্রমশ...)

20 views0 comments