Search

বিজয়া দশমী ।। বিশেষ সংখ্যা ।। অনুবাদঃ- তাপস গুপ্ত


ল্যাটিন আমেরিকার কয়েকটি কবিতার অনুবাদ এবং অনুবাদ সংক্রান্ত দু চার কথা:-- ৭

পর্ব:৭


নীল পরীর চোখ পাওয়া সুন্দরী পুতুলের মত মেয়েটি 10 বছর বয়সেই কবিতা লেখা শুরু করেছিল। উরুগুয়ের মন্টিভিডিও শহরে এক ইটালিয়ান ইমিগ্র্যান্ট পরিবারে ১৮৮৬ সালে জন্ম নিয়েছিলেন কবি ডেলমিরা আগুষ্টিনি (মৃত্যু ১৯১৪)। তার কবিতার সহজ স্বাভাবিক স্বতস্ফূর্ত প্রকাশ অতি দ্রুত তাকে প্রচারের আলোয় নিয়ে এসেছিল। তার কবিতায় ছিল যৌন অনুভূতির অকপট সরল সৌন্দর্যময় প্রকাশ। বাগবৈদগ্ধ কুশলী প্রয়োগ নয়,তাঁর কাছে কাম্য ছিল স্পষ্টবাদিতা। তার রক্তের মধ্যে ছিল "পারেজিয়াস" বা স্পষ্টবাদিতার বিপদজনক বহমানতা। প্রায় খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দীতে গ্রিক নাটক ব্যবহৃত পারেজিয়া শব্দটির ইংরেজি ভাষান্তর হলো ফ্রী স্পিচ। ডেলমিরার কবিতাও ছিল উন্মুক্ত ভাষণ। তার একটি কবিতা পাঠ এর আগে দেখে নেব তার সম্পর্কে ব্রিটানিকা কি বলছে



Agostini was the first woman in Latin American literature to deal boldly with the theme of sensuality and passion, and her poems have a force lacking from most modernist poetry of the period


সুতরাং দেখা যাচ্ছে, এই যৌন কামনার অবাধ প্রকাশ তাঁর কবিতায় কিছু ক্ষেত্রে আধুনিকতার নির্মাণে প্রতিবন্ধক হয়ে উঠেছে।


তাঁর একটি কবিতা:


Explosion


If life were love, how blessed it would be!

I want more life so to love! Now I feel

A thousand years of ideas are not worth

One blue minute of sentiment.


My heart was dying slowly, sadly…

Now it opens like a Phoebean flower:

Life rushes forth like a turbulent sea

Whipped by the hand of love.


My sorrow flies into the night, sad, cold

With its broken wings;

Like an old scar that continues to ache–

In the distant shade it dissolves…

All my life sings, kisses, laughs!

All my life is a flowering mouth!


বিস্ফোরণ


ভালোবাসার ভরন্ত জীবনে আমি সৌভাগ্যবতী

চাই অনুরাগ জীবন জুড়ে অনুভূতি

শত হাজার বছরের মূল্যহীন ধারণা দর্শন

শুধু পড়ে থাক নীলাভ অনুভব অমৃত ক্ষণ

বিষন্ন দহন স্তব্ধ মৃত্যু ছুঁয়ে ধীরে হৃদয় পাঁজরে

এখন বৃন্ত দল মেলে বিতৃষ্ণার আতঙ্ক প্রসূনে

গতিময় জীবন আছ়ড়ায় সমুদ্রের ঘূর্ণি আবর্তে

ভাঙে কশাঘাতে প্রিয় হয় ভালবাসার হাতে।


ছিন্ন ডানায় কষ্ট গুলি পাখি হতে চায়

রাতের বিষণ্ণ আঁধারে

পুরনো ক্ষতের যেন পুনর্বার জেগে ওঠা

অবিরত ব্যথাময় বারে বারে

দূরের ছায়ায় এসব দ্রবীভূত অপসৃয়মান

ফুলের মত ফুটে উঠুক জীবন

উন্মুখ আমি হাস্য সঙ্গীত চুম্বন ঘনত্বে।


এই সহজ স্পষ্ট বাদিতা আমরা গার্সিয়া মার্কেস এর ক্ষেত্রেও দেখতে পাই। একটি আলাপচারিতা র কিছুটা অংশ এখানে তুলে দেওয়া খুব একটা অপ্রাসঙ্গিক হবে না:


প্রশ্ন: হান্ড্রেডে ইয়ার্স এর প্রধান চরিত্র যে কর্নেল তারও সতেরোটা অবৈধ সন্তান সতেরো জন মহিলার গর্ভে উৎপাদন করেছিলেন বত্রিশ বছর গৃহযুদ্ধের সময় কালে। আপনার দাদুরও কি তাই?


উত্তর: কে জানে সঠিক সংখ্যা কোনদিন জানাও যাবে না। মা অবশ্য বলতেন সংখ্যাটা সতেরোই।


প্রশ্ন: এটা আপনার দিদিমাকে নিশ্চয়ই রুষ্ট করত?


উত্তর: তিনি অবৈধ সন্তানদের বাড়ীতেই আশ্রয় দিতেম। বলতেন বংশের রক্ত ওদের শরীরে, ওরা বাইরে ঘুরে বেড়াবে কেন। ওদের তিনি ভালোবাসতেন। তাই কারোর পক্ষে এটা বলা সম্ভব হতো না কোনটা বৈধ আর কোনটা অবৈধ


সাতাশ বছর বয়সে পোঁছে ডেলমিরা সাহিত্যের সঙ্গে সম্পর্করহিত এনরিকে জব রিয়াস নামে এক ব্যক্তিকে বিয়ে করে ফেলেন।বছর ঘুরতে না ঘুরতেই ডিভোর্সও ফাইল করেন আর তার পরের দিন পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে দুটি বুলেটে ডেলমিরার মগজকে শূন্য ও নীরব করে রিয়াস নিজেও আত্মঘাতী হন পরের বুলেটেই।


(ক্রমশ)

16 views0 comments