Search

মহানবমী ।। বিশেষ সংখ্যা ।। ছায়াছবি আলোচনাঃ- আকাশ সাহা


সিনেমা রিভিউ - গোলন্দাজ

প্রডাকশন - SVF

পরিচালক - ধ্রুব ব্যানার্জি

রেটিং - ৭.৫/১০

আকাশ সাহা।



"Art is not what you see, but what you make others see. "


শিল্পের সাথে প্রাচুর্যের মাঝে এই একটা লাইন বরাবর যুক্ত হয়ে যায়। বড়ো কোনো শিল্পের কাজ করতে গেলে শুধু দেখার চোখ নয় তার সাথে বাস্তবতা এবং সৎ আঙ্গিক জুড়ে দিতে হয়। যেখানে কলাকুশলীদের সাথে এক নিবিড় সম্পর্কে জড়িয়ে যায় দর্শক, শ্রোতা বা পাঠক।



এই প্রসঙ্গে আমেরিকান চলচ্চিত্র পরিচালক Martin scorsese এর একটি বিখ্যাত উক্তি মনে এসে যায় -


"cinema is a matter of what's in the frame and what's out."


'গোলন্দাজ' সিনেমার রিভিউ দেওয়ার আগে এই ছোট ছোট বিষয়গুলো খেয়াল করা বড়ো জরুরী। একটা গোটা সিনেমা প্রথমত কেমন বিষয়ের উপরে নির্বাচন করা হচ্ছে তার উপর কেমন প্রভাব ফেলেছে এবং সর্বপরী কতটা সার্থক হয়ে উঠেছে তা ভীষণ ভাবে দর্শকের মধ্যে প্রভাব ফেলে যায়। একটি সিনেমাকে ভালো সিনেমা হয়ে উঠতে গেলে তাকে বেশ কিছু শর্ত মেনে চলতে হয়।


গোলন্দাজের প্রভাব কতদূর?


বাংলা সিনেমা জগতে SVF production তাদের একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে বসেছে। সাধারণত দর্শকদের কথা মাথায় রেখেই তারা সিনেমা নির্বাচন করে এবং ভালোভাবেই বাংলায় ব্যবসা করেছে। গোলন্দাজের মতো একটা বিগ বাজেটের সিনেমা তারা সঠিক সময়ে সঠিক ভাবে রিলিজ করেছে ফলে সাফল্য আকাশছোঁয়া হয়ে দাঁড়িয়েছে।



সিনেমার প্রথম বিষয় যদি নির্বাচন করা হয় তার পরিচালনা বা সিনেমাটোগ্রাফির কাজ তবে তা বেশ ভালো। ধ্রুব ব্যানার্জির 'দূর্গেশগরের গুপ্তধনে' বা 'গুপ্তধনের সন্ধানে' সিনেমায় এর প্রভাব ফেলেছে অসামান্য। সেই কাজগুলো আমার ভালো লেগেছিলো। পুরো সিনেমাটা চলেছে একটা রিদেমিক সুরের উপর। শুরু থেকে শেষ অব্ধি এই সিনেমার প্রথম পাওয়া তার গান এবং ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক। বিক্রম ঘোষ নিজেকে আবার প্রমাণ করেছেন মিউজিকে তার দক্ষতা পরিপূর্ণ। গ্রাফিক্স বা এডিটের কাজও বেশ ভালো।




এই সিনেমার আর একটি অসামান্য দিক হলো অভিনয় তবে মুখ্য অভিনয়ে দেব থাকলেও যে ছেলেটা বারবার আমার নজর কেড়ে নেয় সে হলো উজান চ্যাটার্জী। দেবের অভিনয় এখানে সাবলীল। তবে 'বুনো হাঁস' সিনেমার সেই দেবকে এখনো খুঁজে পাওয়া যায় নিই। বলা বাহুল্য 'বুনো হাঁস' আমার প্রিয় সিনেমার একটি। তবে এই সিনেমায় দেবের গোটা লুক, হাঁটার চলন এবং গোঁফে তা দেওয়া বেশ আকর্ষণীয়। অন্যদিকে ইশা সাহা নিজের বৃত্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ এবং ভালো। অনির্বাণ বেশ ভালো ব্যাকগ্রাউন্ডে ঘটনার বিবরনের সাথে খুব ভালো মানিয়েছিল। মির্চি অগ্নিকে প্রথমে ভালো না লাগলেও পরে বেশ ভালো কাজ করেছে।অন্যদিকে Alex o'nell এর অভিনয় ভালো লেগেছে। অন্যান্য চরিত্রগুলো নিজের জায়গায় নিজেরা ভালো করেছে।


গোটা সিনেমার যে মূল স্ক্রিনপ্লে সেখানে কিছু জায়গায় গলদ আছে। ফুটবল নিয়ে আমার বেশি জ্ঞান নেই তবে স্ক্রিনপ্লের প্রথম অংশ যতটা সুন্দর দ্বিতীয় অংশ ততটাই ঢিমেতালে এগিয়ে চলে। অহেতুক বড়ো করা হয়েছে ঠিক তা নয় তবে ইচ্ছে থাকলে বেশ কিছু জায়গা বাদে কাজ করলে তা দর্শকের কাছে আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠতো।


ফুটবলের ব্যবহার গোটা সিনেমায় অসম্ভব ভালো হয়েছে তার সাথে যুক্ত হয়েছে কুস্তি। দেব নিজেকে বহুদিন ধরে এই পর্যায়ে নিয়ে এসেছে তা তার পরিশ্রম দেখলেই বোঝা যায়। ফুটবলের অসামান্য কাজ দেখানো হয়েছে গোটা সিনেমায়।



যে একটি বিষয়ের কথা না বললেই নয় তা হলো গোটা সিনেমার সময়। ২ ঘন্টা ৩০ মিনিটের এতবড়ো সিনেমা আর একটু স্ক্রিনপ্লের প্রভাবে ছোট হতেই পারতো।


এই প্রসঙ্গে আবার roman polanski এসে যায় -


"Cinema should make you forget you are sitting in a theater."


এইসব কিছু বাদ দিলেও সাধারণ মানুষ যে কারনে বড়ো স্ক্রিনে 'গোলন্দাজ' দেখতে ছুটে গেছে তা হলো এক বাঙালীর স্বপ্ন সফল হওয়ার মাধ্যমে ফুটবলের মতো একটি জনপ্রিয় খেলাকে ভারতের মাথায় তুলে আনা। অন্যদিকে ঝিমিয়ে আসা বাংলা সিনেমা জগৎকে আরও একধাপ উঁচুতে নিয়ে যাওয়া। বলা বাহুল্য দুজনেই নিজের জায়গায় সফল হয়েছে।


বাংলা সিনেমায় লাইন দিয়ে টিকিট কেটে হলের একদম শেষ প্রান্তে বসে সিনেমা দেখছি এ হয়তো একটা দেবের পক্ষেই সম্ভব। সবকিছুর শেষে এই সিনেমা দুই বাঙালীর মেলবন্ধনের সম্পর্ক এবং সবশেষে জিতে যাওয়ার গল্প।


এই পুজোতে একবার হলে গিয়ে পুরো পরিবার বা বন্ধু বান্ধবী মিলে 'গোলন্দাজ' দেখতেই পারেন। অন্তত আমার পুজোতে দেখা এখনো অব্ধি এটি সেরা সিনেমা হিসেবে বিবেচিত হলো।


সবশেষে David lynch এর একটি কথা দিয়ে শেষ করা যেতে পারে -


"Every viewer is going to get a different thing. That's the thing about painting, photography, cinema."



51 views0 comments