Search

মহাষ্টমী ।। বিশেষ সংখ্যা ।। অণুগল্প - চিত্তরঞ্জন গিরি


বন্ধু


চিত্তরঞ্জন গিরি


সংসার চালানো খুব কষ্ট। মুদির দোকান চলছিল বেশ। ধার দিতে দিতে দোকানটা বন্ধ হয়ে গেল। যাইহোক পার্টির সৌজন্যে গড়িয়া স্টেশনে সিভিক পুলিশের চাকরি পেয়ে যেতে সুবল এর মনে দুশ্চিন্তা অনেকটাই কেটে গেছে।




চৌরাস্তার মোড়ে ডিউটি করতে করতে হঠাৎ অতনুকে দেখতে পায়। অতনুই তো। একসাথে ক্লাসে কত আড্ডা মেরেছি। স্যার আমাদেরকে মানিকজোড় বলতো। একসাথেই পাশাপাশি বসা। টিফিন করা। ঘুরে বেড়ানো। অনেক দিনের পর দেখা। নতুন বাইক কিনেছে ওদেরপাড়ার বুবাইয়ের কাছে শুনেছিল।  ওর বাইকের পিছনেএকটা মেয়ে!বান্ধবী মনে হয়। মেয়েটা স্মার্ট। বাহ বেশ ভালো বান্ধবী জুটিয়েছে। আর জুটানোর কথা। পড়াশোনায় তো বরাবর ভালো ছাত্র। ওর মতন তো নয়। উচ্চমাধ্যমিক পাস করে পড়া বন্ধ করে দিতে হলো।  ওক্লাসে বরাবর ফার্স্ট বয়। বাবার হার্ট অ্যাটাক এর জন্য সুবলপড়তে পারল না। সংসারে লেগে গেল। আর অতনু হেরিটেজ  থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে। একটা বড় কোম্পানিতে চাকরি করছে।


আজ অতনুকে দেখে বেশ ভালো লাগছে সুবল এর। ওকে দেখতে পেয়ে হাত বাড়িয়ে ওর সামনের দিকে ছুটে যায়। কিন্তু  কি দেখলো ও? এটাও কি সম্ভব! অতনু তাকিয়েও না দেখার ভান করে চলে গেল। ওর বান্ধবীর সামনেই বন্ধুত্বের পরিচয় দিতে কুন্ঠিত বোধ করেছে নিশ্চয়ই।হতে পারে ও কোথায় বড় ইঞ্জিনিয়ার আর আমি কোথায় সিভিক পুলিশ! হয়তো ভেবেছে ওর স্ট্যাটাসে বাধে। হাঁ করে ওই দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে রইলো সুবল।



এরকম করে মাস দুয়েকের মধ্যে আরো কয়েকবার সুবলেরর সামনাসামনি হয় অতনু। সেই একই ব্যবহার করে অতনু। এরপর আর তার সাথে কথা বলার চেষ্টা করেনি সুবল।


কালীপুজোর আগের দিন। গড়িয়া স্টেশন এর নিচে চৌরাস্তার মোড়ে প্রচুর ভিড়। বেশকিছু পুলিশ সার্জেন্ট হাজির। বিকেল চারটার সময়। সুবল ট্রাফিক সামাল দিতে ব্যস্ত। এমন সময় হেলমেট ছাড়া বান্ধবীকে নিয়ে সার্জেন্টেরহাতে ধরা পড়ে অতনু। হেলমেট নেই। ভুল করে লাইসেন্স নিয়ে আসেনি। সার্জেন্টের ধরপাকড়ে বান্ধবীর সামনে ওর প্রায় প্রেস্টিজটা যেতে বসেছে। তা দেখা মাত্রই সঙ্গে সঙ্গে ছুটে যায় সুবল। "স্যার ওকে ছেড়ে দেন। আমার অনুরোধ।"সুবল এর আকুতিতে সার্জেন্ট সুবল কে জিজ্ঞেস করে"ওর তুমি কে হও? বন্ধু!"


অতনুর দিকে তাকিয়েএকগাল হেসে সুবল বলে"না স্যার। আমারও বন্ধু। ওর বন্ধু আমি নই। ও কোথায় বড় ইঞ্জিনিয়ার আর আমি ছোটখাটো সিভিক পুলিশ!


অতনুকে ছেড়ে দেয়। পিছনে প্রেমিকাকে বসিয়ে বাইক স্টার্ট দেওয়ার পর কৃতজ্ঞতার দৃষ্টিতে সুবল এর দিকে একবার তাকায় অতনু। তার প্রেমিকাকে নিয়ে এগিয়ে যায়।



0 views0 comments