top of page
Search

রামধনু ।। ২৫তম সংখ্যা ।। রম্যরচনা ।। ইন্দ্রাণী দে


পরিবার

ইন্দ্রাণী দে


আজ প্রীতি উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেছে, বেশ ভালো মার্কস পেয়েছে সে| আজ ওর স্কুল থেকে ওকে সম্বর্ধনা দেওয়া হবে; অনুষ্ঠানের সময় প্রীতির স্কুলের হেড মাস্টার মশাই ওর হাতে ট্রফিটা তুলে দেওয়ার পর স্টেজে ওর বাবা মাকে ডাকতে বলে, প্রীতি ওর বাবা মলয় বাবুকে স্টেজে ডাকে| তবে হেডমাস্টার মশাইক ওকে জিজ্ঞেস করে

- প্রীতি, তোমার বাবা কে ডাকলে কিন্তু তোমার মা কোথায়...?

- স্যার, আমার মা নেই তবে আমার আরেক বাবা আছে...!

- মানে?

- এইযে কিছু বছর আগে 377 law পাস হলো, সমপ্রেম কে বৈধতা দেওয়া হল এখন একটি ছেলে অপর একটি ছেলেকে ভালবাসলে, কিংবা একটি মেয়ে অপর একটি মেয়েকে ভালোবাসলে সমাজ কিছু বলতে পারবে না , কিন্তু আজ থেকে অনেক বছর আগে সমপ্রেম ব্যাপারটা কেউ ভাবতেই পারত না তখন এই দুটো মানুষ সমাজের চোখ রাঙানি কে ভয় না পেয়ে নিজেদের সুখ টাকে বেছে নিয়েছে আমাকে তারা রাস্তা থেকে কুড়িয়ে পেয়ে মানুষ করেছে আমি গর্ব করে বলতে পারি আমার দুই বাবা একজন মলয় ব্যানার্জি আর অপরজন সাগ্নিক চক্রবর্তী আমি স্টেজে আমার আরেক বাবাকে ডেকে নেব;


স্টেজে সাগ্নিক বাবু ছুটে এসে জড়িয়ে ধরেন প্রীতি কে ওদিকে মলয় বাবুর চোখেও জল তারা তাদের মেয়েকে সঠিক মানুষ করতে পেরেছেন তবে কিছু মানুষ এই ব্যাপারটাকে ভালো চোখে দেখল না ফিসফিস করে নানা কথা বলতে লাগলো প্রীতি তাদের উদ্দেশ্যে একটাই কথা বলল

- আপনারা যারা ব্যাপারটা ভালো চোখে দেখছেন না তাদের বলি ভালোবাসা কিন্তু কোন বয়স রং লিঙ্গ এসব মানে না দুটো মানুষ ছেলে হোক বা মেয়ে তারা যদি ভাল থাকে একে অপরকে ভালোবাসে তাহলে তার চেয়ে বড় সত্যি কিছু হয় না



হেডমাস্টার মশায়ের মনে মনে বলে উঠেন,

- ভালো থাকুক প্রীতি তোমার এই পরিবার তোমার মত ছাত্রী পেয়ে আমার স্কুল আজ গর্বিত সত্যিই তো ভালোবাসা কোনো বাধা মানে না তোমার দুই বাবা তোমাকে যোগ্য মানুষ বানিয়েছেন...!


সবশেষে প্রীতি তার দুই বাবুর সঙ্গে সেলফি তোলে ফ্রেমবন্দি হয়ে থাকল তাদের এই গর্বিত মুহূর্ত,

আমাদের আশেপাশে এরকম অনেক পরিবার রয়েছে সমাজ হয়তো তাদের ভালো চোখে দেখে না কিন্তু তারা সব বাধা অতিক্রম করে নিজেদের ভালোবাসা নিজের সুখকে বেছে নিয়েছে ভালো থাকুক তারা আর ভালো থাকুক সমস্ত সম প্রেমী জুটিরা।

5 views0 comments

Comments


bottom of page