Search

স্বাধীনতা ।। প্রবন্ধ ।। ধিরাজ সাউ


ভারতীয় স্বাধীনতা কর্মী এবং রাজনীতিবিদ মোরারজি দেশাই : কঠোর স্বভাবি সংস্কারবাদী , ইন্দিরা গান্ধী মন্ত্রিসভা , বিরোধিতায় , 1977 সালের জনতা ঢেউ ।


ধিরাজ সাউ


ভূমিকা


শ্রী মোরারজি দেশাই একজন ভারতীয় স্বাধীনতা কর্মী এবং রাজনীতিবিদ যিনি 1977 থেকে 1979 সালের মধ্যে জনতা পার্টির দ্বারা গঠিত সরকারের নেতৃত্বে ভারতের চতুর্থ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন । ৮১ বছর বয়সে প্রধানমন্ত্রী পদ প্রাপ্তি হয় । ইনি একজন এমন ব্যক্তি অর্থাৎ ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন, যাকে ভারত ও পাকিস্তান – দুটো দেশেরই উচ্চ সম্মান দেওয়া হয়েছিল । ভারতে, ভারত রত্ন দেওয়া হয় এবং ১৯৭৪ সালে ভারতের প্রথম পারমাণবিক পরীক্ষার পর দেশাই চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করেন এবং ১৯৭১ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের মতো সশস্ত্র সংঘাত এড়ানোর অঙ্গীকার করেন। এবং ১৯ মে ১৯৯০ সালে তিনি পাকিস্তানের সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার ‘ নিশান-ই-পাকিস্তানে ‘ সম্মানিত হন । এইগুলি হল সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার । মোরারজি দেশাই তার নিজ সত্যবাদী ও একগুঁয়ে স্বভাব এর জন্য জনসমুক্ষে পরিচিত ছিলেন । তৎকালিন সময়ে কে প্রধানমন্ত্রী হবেন ‘ মোরারজি দেশাই নাকি ইন্দিরা গান্ধী ‘ ? – এই প্রসঙ্গে বিস্তর আলোচনা আছে ।




বিষয়বস্তু


মোরারজি দেশাই এর প্রারম্ভিক জীবনের দিকে দিক নিদের্শ বা পর্যালোচনা করলে দেখা যায় ,যে তিনি একজন গুজরাটি ছিলেন ,ব্রাহ্মণ পরিবার এ জন্মগ্রহণ করেন – খুবই মধ্যবিত্ত পরিবার ছিল । ৮ ভাই-বোন দের মধ্যে সব থেকে বড় ছিলেন এবং‌ মোরারজি দেশাই এর যে জন্ম তারিখটি ছিল তা ছিল ২৯ শে ফেব্রুয়ারি অর্থাৎ যাকে আমরা লিপিয়ার বলে থাকি । আমরা জানি ১ বছরে ৩৬৫.২৪২১৯৯ দিন হয় এবং ৪ বছর অন্তর লিপিয়ার হয় । এই লিপিয়ার এর সময় জন্ম হয়েছিল ,১৮৯৬ সালে বালসার জেলায় যা এখন গুজরাটে আছে ,তৎকালিন মোম্বাই প্রেসিডেন্সী বলা হত । দেশাই এর বাবা স্কুল শিক্ষক ছিলেন এবং প্রথমদিকে পরিবারে খুবই আর্থিক অনটন ছিল এবং খুব কম সময় এ বাবার মৃত্যু মোরারজি দেশাই কে ভাবিয়ে তোলে এবং তিনি পরিবারের প্রতি ও নিজ জীবনেরও প্রতি খুবই চিন্তিত থাকতেন এবং এই যে ‘চাপ’ ও পড়ে যাওয়া – ‘ভার’ তাঁকে একগুঁয়ে ও কঠোর স্বভাব এর করে তোলে । তিনি একেবারে আলাদা গুণ সম্পন্ন রাজনৈতিক আমূল সংস্কারবাদী ব্যাক্তি ছিলেন । কেন না, যখন তিনি ক্যাবিনেট এ জায়গা পান তখন তিনি এক এক করে ,যেখানে যেখানে অশ্লীল ভাবনা ছিল – ওই সকল জায়গা গুলির পাল্টানো বা বিরোধ করা শুরু করেন ।



‘ সিনেমায় যদি কোথাও অশ্লীল বা নোংরা দেখানো হলে তা তিনি বিরোধ করতেন এককথায় তিনি সম্পূর্ণ কর্ম শক্তির প্রয়োগ করেছিলেন । সমাজ তখন দুটি ভাগে বিভক্ত ছিল – ১) একটি যা খুবই ধনী শ্রেণী ছিল যাঁদের কাছে অসংখ্য সম্পত্তি ছিল এবং তাঁদের খরচা-খরচ ও খুব বেশি ছিল , ২) অপর টি ,যার কাছে তেমন অর্থ সমৃদ্ধি কিছুই ছিল না । ভারতের সংখ্যা গরিষ্ঠতা বিশেসাধিকার অধীনে ছিল যখন ভারত স্বাধীনতা লাভ করে । এখানে মোরারজি দেশাই সম্পূর্ণভাবে মহাত্মা গান্ধীর আদর্শকে মানতেন এবং সমাজে সমর্পিত ছিলেন । স্নাতক এর পর মোরারজি দেশাই দিন রাত পরিশ্রম করেন এবং সিভিল সার্ভিস এ উত্তীর্ণ হন । মোরারজি দেশাই IAS ছিলেন ,সে সময় তো UPSC ছিল না ,মূলত আলাদা ধাঁচের পরীক্ষা হত সিভিল সার্ভিস এর ; তৎকালিন বোম্বে প্রদেশ থেকে তিনি পরীক্ষা টি পাস করেন এবং ১২ বছর পর্যন্ত ডেপুটি কালেক্টর এর পদ-এ পদাসিন থাকেন । তারপর মহাত্মা গান্ধী ভারতে একের পর এক আন্দোলন শুরু করেন এবং‌ এখান থেকেই মোরারজি দেশাই, মহাত্মা গান্ধীর আদর্শ ও মহাত্মা গান্ধীর সম্পর্কে আসেন এবং একসময় মোরারজি দেশাই সম্পূর্ণভাবে নিজেকে দেশের প্রতি সমর্পিত করে দিয়েছিলেন ।, ১২ বছর চাকরি করার পরে তিনি ডেপুটি কালেক্টর পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে দেন অর্থাৎ ব্রিটিশ সরকারের হয়ে যে চাকরি করছিলেন তা ছেড়ে দেন এবং‌ ঠিক তারপর থেকেই তিনি ভারতের জন্য কাজ করা শুরু করেন বলা হয় ,১৯৩০ এর যত আন্দোলন গুলি ছিল সেগুলোর তে তিনি সামিল হন এবং‌ জেল ও যেতে হয়েছে তাঁকে । তিনি সবথেকে বড় সুযোগ পান যখন ১৯৩৭ সালে গুজরাত প্রদেশ কংগ্রেস এর সেক্রেটারী অধক্ষ রূপে নির্বাচিত ও যুক্ত করা হয় তাঁকে – এর আগে ১৯৩১ সালে All India Congress Committee , সর্বভারতীয় কংগ্রেস কমিটির সদস্য হয়ে এসেছিলেন মোরারজি দেশাই । তখন এমনাবস্থা ছিল ,যে ১৯৩৫ সালে ইতিমধ্যে ‘ Government of India Act ‘ এসে গিয়েছিল অর্থাৎ ভারতে যতগুলো মূল বা বড়ো বড়ো দল গুলির কাছে ,তাঁরা নির্বাচন লড়তে পারে কোন আইনি অসুবিধে নেয় । এবং ইন্ডিয়ান জাতীয় কংগ্রেস জয়ী হয়েছিল । মুসলিম লিগ সংখ্যালঘু ছিল এবং এটি নিয়ে ঝামেলা হচ্ছিল ,তবে এটি একটি আলাদা বিষয় ,যার পৃথক আলোচনা আছে । এখানে যখন পুরো কংগ্রেস পার্টি ক্ষমতায় আসে তো মোরারজি দেশাই কে খুবই গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান প্রদান করা হয়েছিল । এবং এইখান থেকেই এটা পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছিল যে ,যদি কোনো ব্যাক্তি জহরলাল নেহেরুর মৃত্যুর পর নিজের দাবিদাওয়া পেশ করছে প্রধান মন্ত্রিত্বের ,তো এটা ভাবা উচিত যে তার যোগ্যতার উচ্চতা কত বড়ো হবে ! মোরারজি দেশাই এর এরূপ ব্যক্তিত্বের খ্যাতি সম্পন্ন ছিলেন । এবং ১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধ শুরু হয়ে যায় এবং মহাত্মা গান্ধী কংগ্রেস এর সঙ্গে পুরোপুরি যুক্ত হয়ে যান এবং ব্রিটিশ বিরোধী একের পর এক আন্দোলন গুলিতে নেতৃত্ব প্রদান ও পরিচালনা করতে থাকেন । যত কংগ্রেসের সদস্য ছিল ,যাঁদের যাঁদের মন্ত্রিত্ব পদ ছিল বা যারা সরকারের হয়ে কাজ কর ছিলেন – সকলেই ইস্তফা দেন এবং তাঁদের একটাই লক্ষ্য ছিল কীভাবে স্বাধীন হওয়া যায় , স্বাধীনতা অর্জন করা যায় । দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের শেষে ভারতবর্ষ স্বাধীনতার খুবই কাছে এসে গিয়েছিল তবে একথা ও বলতেই হয় যে ‘ ভারত ছাড় আন্দোলন ‘ এর সময় মোরারজি দেশাই এর জেল হয়েছিল । এই আন্দোলন এর সময় ব্রিটিশ সরকার ,যত বড়ো বড়ো নেতারা ছিলেন সকলকে জেলে ভরতে শুরু করে । মোরারজি দেশাই ৩ বছর জেলে থাকেন এবং ১৯৪৫ সালে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয় ।



এরপর ,রাজ্য বিধানসভা নির্বাচন (State Assembly Elections) শুরু হয় । ১৯৪৬ সালে বোম্বে এর জন্য মোরারজি দেশাই কে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী করা হয় ( Minister for Home and Revenue in Bombay ,) এবং মোরারজি দেশাই এর জন্য – তার করণীয় কাজ গুলো করতে থাকেন । এবং ১৯৫২ সালে মোরারজি দেশাই কে মুখ্যমন্ত্রী করা করা হয় ।, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পরিলক্ষিত হয়েছিল , তিনি প্রশাসনিক দক্ষতার পাশাপাশি কঠোরতার জন্য খ্যাতি অর্জন করেন। একথা ও উল্লেখ্য যে ১৯৪৭ এর পর যখন ভারত স্বাধীনতা লাভ করে এর আগে কি অবস্থা ছিল ? - এটাই ছিল যে ,- ভারতের সকলেই অবিভক্ত\ সঙ্গবদ্ধ ছিল ,এটা কিছুটা মান্য ,যে হিন্দু মুসলিম ঐক্যতা ছিল না খুব বেশি কিন্তু যত নেতারা ছিলেন তাঁরা ঐক্যবদ্ধ ছিলেন, স্পস্টত কংগ্রেস এর কোন বিদ্রোহ এর আওয়াজ আসছিল না ,কেন না সকলের একটাই শত্রু ছিল ইংরেজ\ ব্রিটিশ সরকার , তখন একটাই ধারণা ছিল প্রথম এ ইংরেজ সরকার থেকে স্বস্থি পাই তার পর যা করণীয় করা হবে । ১৯৪৭ এর পর নেতৃত্বে অস্পষ্টতা দেখা দিতে শুরু হয় । শ্যামা প্রসাদ মুখার্জি ,যিনি পরোক্ষভাবে বি.জে.পি. এর প্রতিষ্ঠা-সুত্রপাত করেন । যা এখন ক্ষমতাসীন দল ও আছে ।, শ্যামা প্রসাদ মুখার্জিই প্রথম ছিলেন যিনি ক্যাবিনেট থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন ,এখানে এমনাবস্থা আছে যে ,ভারত যখন স্বাধীন হয় ,তারপর একের পর এক অর্থাৎ এক একজন নেতারা নিজের অসম্মতি ব্যক্ত করতেন , ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস এর কাছে – জহরলাল নেহেরুর কাছে এবং তা পরে পুরোপুরি খোলা ভাবে জনসম্মুখে আসে ; যখন জহরলাল নেহেরু মারা যান ,তখন নানা সমস্যার সূত্রপাত হতে থাকে ।,



এখানে ,১৯৫২ সালে মোরারজি দেশাই কে যখন বোম্বের মুখ্যমন্ত্রী করা হয় তো তখন আর একটা জিনিস হয়েছিল, - যেমন আমরা জানি যে ১৯৪৭ এর সবথেকে বড় নজরদাবি ছিল এই যে ভারতের যতগুলো রাজ্য আছে স্পস্টত রাজকীয় রাজ্যসহ সকল রাজ্য গুলোকে এক কিভাবে করা যায় ..। তখন সর্দার প্যাটেল ,যিনি তৎকালিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ছিলেন ,তিনি দিন-রাত কাজ করে সকল রাজ্যগুলি কে এক করেন,এবং এটির কৃতিত্ব পুরোপুরি সর্দার প্যাটেল এর । কিন্তু এখানে সমস্যা ছিল এই যে বহু|অনেক রাজ্যগুলিই আলাদা মর্যাদা বা সামাজিক মর্যাদার (Status) এর দাবি করছিল । কেন না এখানে প্রথমে দেখলে বোঝা যায় প্রথমেই ২৮ টি রাজ্য গঠিত হয় নি । এখন আমাদের ২৯ টি রাজ্য আছে কিন্তু প্রথমদিকে এতগুলো ছিল না ,এখানে অসুবিধে ছিল এই যে কী পদ্ধতি বা প্রক্রিয়ায় রাজ্য গড়া যায় !, ভাষাগত বিষয় এ ভিত্তি করার কথা ওঠে -এই সময় বম্বেতে একটি সমস্যা দেখা দেয় । যে বম্বে মহারাষ্ট্রে বসবাসকারি গণ বলছিলেন যে ,সবথেকে উপরে কারোর কল্যাণ|উপকার বা স্বার্থ থাকবে তো তা থাকবে মারাঠিদের ,একটি সংস্থা এই কথা বলছিল এবং এই সংস্থার প্রতিষ্ঠাই বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাই ছিল ‘ ঠাকরে ‘ পরিবারের যোগসূত্রে । সংস্থাটির নাম ছিল মহারাষ্ট্র সাম্যুয়াক্ত মোর্চা \সমিতি । এখানে পুরো জোরে আন্দোলন হচ্ছিল । - যে সব থেকে প্রথমে যদি কাউকে সর্ব সকল অধিকার দেওয়া হয় ; তবে তা মারাঠি কে দিতে হবে । ‘ মোরারজি দেশাই যেটা থেকে একদমই অসহমত ছিলেন । মোরারজি দেশাই মনে করতেন ‘ভারত একটি দেশ আছে-এখানে সর্ব সকলে সমান । পরবর্তীকালে , মহারাষ্ট্রে ভয়ংকর রুপধারণ করতে থাকে আন্দোলনটি । আমরা জানি মোরারজি দেশাই গুজরাটি ছিলেন ; এবং গুজরাত ও দক্ষিণ ভারতের লোক এ দের পুরোপুরি বিতাড়িত করা শুরু হয় ,যার সঙ্গে বালা সাহেব ঠাকরে এর অন্যতম ভূমিকা ছিল । এবং প্রসঙ্গত ‘ লুঙ্গি হটাও-পুঙ্গি বাজাও ‘ এর ডাক শোনা যায় । তৎকালীন পরিস্থিতির সম্মুখীন মোরারজি দেশাই সাফ-সাফ বলে দিয়েছিলেন যে এমন কিছুই বাস্তবায়িত হবে না । এক সময় আন্দোলন টি উগ্রতার অধিক সীমা অগ্রসর করলে ,মোরারজি দেশাই – কড়া নজরদারির নির্দেশ দেন এবং ১০৫ জন এর মৃত্যু হয় । তখন এটা স্পস্ট বোঝা গিয়েছিল যে ,মোরারজি দেশাই বিদ্বেষপূর্ণ উত্তরনে পিছপা হবেন না ।



তারপর , প্রধানমন্ত্রী জহরলাল নেহেরু মোরারজি দেশাই কে ক্যাবিনেট এ ডেকে নেন ,এবং তিনি ১৪ই নভেম্বর, ১৯৫৬ সালে ‘ Union Cabinet as Minister For Commerce and Industry ‘ হিসেবে যুক্ত হন । এবং পরে ২২ মার্চ ,১৯৫৮ সালে Finance Portfolio হন । এই সময় অনেকগুলিই গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেন মোরারজি দেশাই । যেমন প্রতিরক্ষা এর জন্য বাজেট করা হয় ,টাকা আসতে শুরু হয় । তিনি শিল্প কে বাড়িয়ে তোলার দিকে মননিবেশ করেন । এবং সব থেকে বড় কাজ হল ‘ ভূমি সংস্কার ‘ করা । ভূমি সংস্কার তৎকালীন বিশেষ সমস্যা ছিল এবং তা আজও আছে ।,কেন না জমি যে ছিল , ভারত যখন স্বাধীন হয় তখন তা কিছু জনের কাছে ছিল । এবং এই কিছুজন ওরা ছিল যারা খুব বেশিই ধনী ছিল ,এদের জমিন্দার বলা হত । এবং এদের জমিন্দার হয়ে ওঠার মুলেই ছিল গরিবদের জমি অধিগ্রহণ ‘ রাতারাতি দেশ স্বাধীন হয়ে যাওয়ার পর কেও কাউকে জমি দেবে কেন ! অর্থাৎ এই জমি সংস্কার এর বিষয় টি ঝামেলা পূর্ণ ছিল । একদিকে আচার্য বিনোবা ভাবে পুরোপুরিভাবে তার নিজ ভু-দান আন্দোলন শুরু করেদেন এবং অনেক কিছুই করেন, কিন্তু সমস্যা তখন দেখা দেয় এবং মোরারজি দেশাই খোলা ভাবে (স্বাধীন) তখন বলতে ও পদক্ষেপ গ্রহণ করতে শুরু করেন যখন নেহেরুর দেহাবসান হয় মে মাসের ১৯৬৪ সালে । এবার প্রধানমন্ত্রী কে হবেন এই নিয়ে কংগ্রেস এর অভ্যন্তরীণ বিবাদ দেখা দিতে থাকে ।



ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস কে মাঝে অনানুষ্ঠানিকভাবে ‘ ইন্ডিকেট ‘ দ্বারা সিন্ডিকেট ও ইন্দিরা গোষ্ঠী হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছিল ,এর নেতা ছিলেন কে. কামরাজ । যাকে ‘ king Maker ‘ ও বলা হত । যে ব্যক্তি রাজা গড়ে – সে তো রাজার থেকেও উপরে তার পদ ও মর্যাদা উচ্চ ,যেমন উদাহরন হিসাবে বলা যায় চানক্য কে ,চানক্য চন্দ্র গুপ্ত মৌর্য্ কে গড়েন ,এখানে চানক্য কে সবথেকে উপরে মান্যতা প্রদান করা হয় । কেন না সময় এর সঙ্গে সঙ্গে ওই রাজা পরিবর্তন ও হতে পারে ,কিন্তু যে রাজা কে রাজ পাটে সমৃদ্ধি দেয় ,সে তার পতন এর কারণও হতে পারে । তো কে. কামরাজ যিনি তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন এবং কংগ্রেস এর অধক্ষ ও ছিলেন ,ইনি মোরারজি দেশাই নিজের দাবিদাওয়া পেশ করে দেন ,মোরারজি দেশাই জানতেন ,ইনি প্রধানমন্ত্রী হবেন কেন না বরিষ্ঠ নেতা ছিলেন । কিন্তু কে. কামরাজ সময় এর গুরুত্ব অনুসারে ‘- লাল বাহাদুর শাস্ত্রী কে নির্দেশ দেন । লাল বাহাদুর শাস্ত্রী নির্বাচিত হলেও , ভাগ্যে অন্য কিছু মঞ্জুর ছিল । ১৮ মাস পর লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর রহস্যমই মৃত্যু হয়ে যায় । তাসখন্ড চুক্তি সমসাময়িক জানুয়ারির ১৯৬৬ সালে ।, এমনাবস্থা তে মোরারজি প্রধানমন্ত্রী হয়ে থাকেন ,এবং তিনিও এটাই চেয়েছিলেন । এমনি হওয়ায় রাজনীতি এক অন্য দিকে পরিচালিত হতে দেখা যায় ,ইন্দিরা গান্ধি কে রাজনীতিতে আসার কোন স্বার্থ বা মনোযোগ ছিল না । তিনি লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর টানে এসেছিলেন, এমনটি তাঁর আত্মজীবনীতে বলা হয়েছে আর লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর ও একটি বইয়ে এরূপ উল্লেখ করেছেন এবং ইন্দিরা গান্ধী লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর টানে রাজনীতিতে নামলে তিনি একদমই নতুন ছিলেন । প্রথমদিকে তাঁকে ‘গুঙ্গি গুঁড়িয়া' বলা হত । এবং দল তাঁকে তখন পছন্দও করত না । পরবর্তীকালে ,ধীরে ধীরে তিনি খুবই প্রভাবশালী নেত্রী হন । কিন্তু এখানে কথা হল কাকে নেওয়া হবে – মোরারজী দেশাই কে নাকি ,ইন্দিরা গান্ধিকে এরই মধ্যবর্তীকালীন পর্যায় এ নানা নাটকীয় ঘটনা ঘটতে থাকে । শেষ পর্যন্ত ১৯৬৭ সালে যখন নির্বাচন হয় ,ভারতে তখন কংগ্রেস জয়ী হয় ।, এবং জয়ী হওয়ার কথাও নিশ্চিত ছিল কিন্তু কংগ্রেস তখন খুব বড় অংশে জয়ী হয় নি । ৭৮ টি আসন এর ক্ষতি হয়েছিল, শুধু ২৮৩ টি আসন সংগ্রহ করতে পেরেছিল কংগ্রেস , উপরন্তু ৮ টি রাজ্যে সংখ্যা গরিষ্ঠতা পায়নি মানে কংগ্রেস এর কাছ থেকে ৮ টি রাজ্যের সমর্থন চলে গিয়েছিল এবং অবস্থা ভঙ্গুর হয়ে যাচ্ছিল । এবার প্রশ্ন: এটি ছিল যে ইন্দিরা গান্ধী প্রধানমন্ত্রী হবেন নাকি মোরারজি দেশাই - ? এবং ইন্দিরা প্রধানমন্ত্রী হন । ইন্দিরা গান্ধী নিশ্চিত করেন যে মোরারজি দেশাই কে উপ প্রধানমন্ত্রী এবং অর্থমন্ত্রী করা হবে । কিন্তু মোরারজি দেসাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রিত্বও চাইছিলেন ,যা ইন্দিরা গান্ধী চাননি । এই নিয়ে নানা কথা বৈঠক হওয়ার পর এটি স্পস্টত বলা হয় যে ,মোরারজি কে উপপ্রধানমন্ত্রী করা হবে । অর্থাৎ ইন্দিরা গান্ধী প্রধানমন্ত্রী হবেন এবং মোরারজি দেশাই উপ প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী ।


পরবর্তীকালে কিছু বছর পরে ইন্দিরা গাঁধীর প্রধান সচিব পি.এন. হাক্সার (Parmeshwar Narayan Haksar) যিনি মার্কসবাদী ছিলেন । তাঁর সংস্পর্শে এক সময় এমন অবস্থা দেখা দিয়েছিল যে ইন্দিরা গান্ধী মানে ইন্দিরা গান্ধির ওপর আরোপ করা হচ্ছিল যে ইন্দিরা সাম্যবাদের দিকে অগ্রসর হচ্ছেন ,অর্থাৎ সাম্যবাদ এ যেমন সরকার সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে এক এক করে ,অর্থাৎ সব কিছুর ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ থাকবে । এখানে মোরারজি দেশাই শিল্পকে বাড়িয়ে তোলার উদ্যোগী ছিলেন । এখানে অসুবিধা এটা হয়ে গিয়েছিল যে একটু একটু করে ইন্দিরা গান্ধী বামপন্থী অর্থনৈতিক বিশ্বাসগুলি কেইনসিয়ান অর্থনীতি এবং কল্যাণ রাষ্ট্র থেকে শুরু করে শিল্প গণতন্ত্র এবং সামাজিক বাজারের মাধ্যমে অর্থনীতি জাতীয়করণ এবং কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা, কাউন্সিলের এবং সমাবেশ ভিত্তিক স্ব-পরিচালিত নৈরাজ্যবাদী কমিউনিজম এর দিকে অগ্রসর হয়েই যাচ্ছিলেন ,- যার ফলসরুপ ইন্দিরা ও মোরারজি এর মধ্যে মত-বিরোধ বা টক্কর দেখা দেয় । জুলাই ১৯৬৯ সালে দুটি বিষয়ের জন্য কংগ্রেস ছিন্ন ভিন্ন হয়ে যায় । প্রথমত- কংগ্রেস ও ইন্দিরা গান্ধী , দ্বিতীয়ত- বাকি নেতারা যেখানে মোরারজি দেশাই ও সামিল ছিলেন এবং নেতৃত্বে ছিলেন ,বিষয়টি এখানে এমনি হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল যে ,ইন্দিরা মোরারজি দেশাই কে স্পষ্ট বলে দিয়েছিলেন যে ,অর্থমন্ত্রীর পদ থেকে অপসারিত হয়ে শুধু উপ প্রধানমন্ত্রী পদ এ তিনি থাকবেন । এমনটা করেছিলেন ।পরিকল্পনা এটাই ছিল যে ১৯৬৯ এ ব্যাঙ্কগুলিকে জাতীয়করণ করা হবে ,কেন না আগেই উল্লেখ করা হয়েছে যে ইন্দিরা অনেকটাই সাম্যবাদের দিকে অগ্রসর হয়েছিলেন,Leftist হতে শুরু করেছিলেন অর্থাৎ সরকার সবকিছুই নিয়ন্ত্রণ করবে । এবং সব থেকে প্রথম লক্ষ্য বা হস্থক্ষেপ হবে ব্যাঙ্ক গুলোতে । এখানে একথা বলা প্রয়োজন, এই যে জাতীয়করণ সিদ্ধান্ত টি ছিল ইন্দিরা গান্ধী কে রাতারাতি ‘ আদর্শ চারিত্রিক ‘ করে দিয়েছিল । কেন না ,তৎকালীন ব্যাঙ্ক গুলির অবস্থা এমনই ছিল যে পুরো দেশ এ ৬০০০ শাখা ছিল । কেন না ব্যাঙ্ক ১৯৬৭ এর পূর্বে ব্যক্তিগত হস্থক্ষেপ অবস্থান করত । ব্যক্তিগত মালিকগন ব্যাঙ্ক গুলোকে পরিচালনা করছিল । ব্যক্তিগত মালিকানা মানেই হল নিজ স্বার্থে অধিক গুরুত্ব আরোপ । এখানে মালিকগণ নিজ লাভের ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে থাকে তাঁদের আরো অন্য শাখা প্রতিষ্ঠা করার উদ্দেশে ,এখন এটি অসুবিধে ছিল যে ,এখানে যে ব্যাঙ্ক গুলি ছিল ১৯৬৯ এর আগে সেগুলো শুধু ধনীদের জন্য ছিল । গরিবরা ব্যাঙ্ক এ যেত না । ১৯৬৯ সালে, ইন্দিরা গান্ধী চৌদ্দটি প্রধান বাণিজ্যিক ব্যাংক জাতীয়করণ করতে চলে যান। ব্যাঙ্ক জাতীয়করণের পর, ভারতে সরকারি ব্যাংকের শাখাগুলি আমানতের আনুমানিক ৪০০ শতাংশে উন্নীত হয় এবং অগ্রগতিগুলি ১১০০০ শতাংশের বিশাল বৃদ্ধি পায় । এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত যখন তিনি নেন । তারপর থেকে গরিব হোক বা ধনী হোক সকলেই ব্যাঙ্ক এ যেতে পারতো ,সকলে ব্যাঙ্ক এর সুযোগ সুবিধা নিতে পারতো ।



ইন্দিরা গান্ধী নিজের সিন্ধান্ত নিজেই নিতেন এবং এটার জন্যই কংগ্রেস বলে যে ইন্দিরা তৎকালীন দলের বিরুদ্ধে যাচ্ছেন । দেখা যাচ্ছিল যে দুজন রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী ছিলেন ,প্রথমত- বরাহগিরি ভেঙ্কট গিরি ,যাকে ইন্দিরা গান্ধী পোষণ করছিলেন ,দ্বিতীয়ত- নীলম সঞ্জীব রেড্ডি ,যাকে বাকি কংগ্রেস এর নেতারা সমর্থন করছিল ।ইন্দিরা গান্ধী দেখেন বরাহগিরি ভেঙ্কট গিরির কংগ্রেস নেতাদের সমর্থন নেই তাই বরাহগিরি ভেঙ্কট গিরির বিকল্প জগজীবন রাম কে বানানো হবে । কিন্তু কংগ্রেস পার্টি চাইছিল নীলম সঞ্জীব রেড্ডি হবেন পরে বরাহগিরি ভেঙ্কট গিরি নির্দলীয় প্রাথী হয়ে উঠে দাঁড়ান এবং তিনি জয়ী হন । এক সময় ইন্দিরার বিরুদ্ধে যে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছিল ,তাতে কংগ্রেস এর নেতারাও অভিযুক্ত হন । কংগ্রেস বিভাজনের ক্ষেত্রে এটি ও একটি কারণ ছিল এবং এখানে বলা হয় যা ভুল নয় ঠিকই এখানে পার্টির যে সিদ্ধান্ত গুলো ছিল ঠিক তার বিপরীত যাচ্ছিলেন ইন্দিরা গান্ধী ,পার্টি যা বলছিল তা উপেক্ষা করা হচ্ছিল । তাই পার্টি বিভাজিত হয় এবং ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস দু ভাগে বিভক্ত হয়ে যায় যথা – কংগ্রেস ‘ ও ‘ যা ইন্দিরার বিরুদ্ধিকারি পার্টি ছিল । দ্বিতীয় টি কংগ্রেস ‘ আর ‘ কংগ্রেস রুলিং যা ইন্দিরার পার্টি তৈরি হয় । এখানে নির্বাচন হওয়ার ছিল ১৯৭১ সালে ,তার ঠিক ১৮ মাস আগে তিনি বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করেন ,নির্ধারিত সময়ের এক বছর আগেই নতুন নির্বাচন করার নির্দেশ দিয়েছিলেন, এবং বলেছিলেন যে তার সামাজিক ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের প্রতি ডানপন্থি বিরোধিতার কারণে তার সরকার ‘ বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের ঘোষিত প্রোগ্রামে এগিয়ে যেতে পারে না । তার দলের সংসদে সংখ্যা গরিষ্ঠতা নেই। তাই সবকিছুই সমাধান হয়ে যায় নির্বাচন হয় ,জনরব ও ওঠে ইন্দিরা হটাও কিন্তু ইন্দিরা গান্ধী তো সরেননি কেন না যখন ফলাফল সামনে আসে তো পুরো লিখিত বিবরণী ভঙ্গ করে কংগ্রেস , ৫১৮ এর মধ্যে ৩৫২ টি আসন কংগ্রেস পেয়েছিল । এবং মোরারজি দেশাই এর স্বপ্ন স্বপ্নই হয়ে থাকে, এখানে অনেক অভিযোগ ও উঠে আসে । বিষয়টি যেহেতু মোরারজি দেশাই কে নিয়ে তাই ইন্দো-পাকিস্তান বিষয় টি উপেক্ষা করাই বাঞ্ছনীয় যা ১৯৭১ সালে হয়েছিল এবং পাকিস্তানি সৈন্য সম্পুর্ণভাবে আত্মসমর্পন করে যা ইন্দিরা গান্ধীর তাৎপর্য কে আরো সুউচ্চ করে তোলে । ইন্দিরা নির্বাচন এ জয়ী হন কিন্তু তার ওপর ,নির্বাচনী দুব্যবহারের জন্য দোষী সাবস্ত করা হয়েছিল । এবং মামলাটির টের ইন্দিরাও পেয়েছিলেন , যার ফলসরুপ ইন্দিরা ‘জরুরি অবস্থা' ঘোষণা করেন রাষ্ট্রপতি কর্তৃক ১৯৭৫ সালে । এটি চলাকালীন নানান সংশোধন ও হয়েছিল । এবং নানা সংশোধন ইন্দিরা গান্ধী ও আনেন । যেমন ৪২,৪৩,৪৪ তম সংশোধন ,এটির কথা অনুসারে ,পার্লামেন্ট এর ক্ষমতা উর্ধ বা বেশি হবে ,সুপ্রিম কোর্ট ও হাই কোর্ট এর ক্ষমতা কম করার প্রচেষ্টা পূর্ণ ভাবে এই সংশোধন গুলোতে করা হয়েছিল । এরপর ১৯৭৭ সালে যখন নির্বাচন হয় তখন জনতা দল সম্পূর্ণভাবে জয়ী হয় এবং জনতা দলের নেতা ছিলেন মোরারজি দেশাই । তিনি নিশ্চিত করেন যে ,যে সংশোধন গুলো আছে ,এইগুলো কে অপসারণ বা সরানো হবে এবং মোরারজি দেশাই তা প্রবর্তন করেন এই উদ্দেশে যে ইন্দিরা গান্ধী এর আগে যে নিয়ম বানিয়েছিলেন তা খারিজ করার জন্য এবং এরপর কখনও জরুরি অবস্থা যাতে না জারি হয় ।



ভারতের গনতন্ত্র যাতে গনতন্ত্রের বাস্তব অর্থ বহন করে,গনতন্ত্র শুধু নামের গনতন্ত্র হয়ে না রয়ে যায় । জরুরী অবস্থা এর সময় কাল হল ২৫ জুন ১৯৭৫ – ২১ মার্চ ১৯৭৭ এই প্রায় দু বছর সক্রিয় ছিল ,এরপর নির্বাচন হয় ,জনতা দল নানা পার্টির সংমিস্রন ছিল এবং প্রথমবার এর অ-কংগ্রেসি সরকার ক্ষমতায় আসে যার নেতা ছিলেন মোরারজি দেশাই । মোরারজি দেশাই নানা প্রচেষ্টা করেগেছেন, যতদিন প্রধানমন্ত্রী পদ এ ছিলেন (২-বছর) তিনি পাকিস্তান চিনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করার কথা বলেন ইন্ডিয়ান নিউক্লিয়ার প্রোগ্রাম এর দিকেও দিক নির্দেশ করা হয় । কিন্তু এমন একটা সংগঠন ছিল যার থেকে বিরক্ত থাকতেন মোরারজি দেশাই ,তা হল R & AW (Research and Analysis Wing ) . মোরারজি দেশাই পুরোদমেই প্রচেষ্টা চালিয়ে ছিলেন এর বাজেট ও ক্ষমতাকে হ্রাস বা কম করতে । কেন না R &AW যে ছিল এটি ইন্দিরা গান্ধীর খুবই কাছাকাছি সম্পৰ্কীয় ছিল ।এবং ইন্দিরা এটিকে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হিসেবে মান্যতা দিতেন ভারতের সুরক্ষার জন্য । জনতা দল ১৯৭৯ সালে , যেহেতু এটি বিভিন্ন দলের সংমিস্রন ছিল এবং এই ধরনের সরকারের কোনও ভরসা ত্থাকে না , কেন না চরন সিং, রাজ নারায়ণ্নন সহ বিশেষ কয়েকজন নেতারা নিজের সমর্থন তুলে নেন ,এবং মোরারজি দেশাই কে ইস্তফা দিতে হয় । এরপরেও মোরারজি কয়েকটি সভা সমিতি করতে থাকেন কিন্তু তার বয়স হয়ে গেছিল ,তাই তিনি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে এবার তার অবসর গ্রহণ করা প্রয়োজন ।, এরপর তিনি ৯৯ বছর বয়সে ১৯৯৫ সালে মারা যান তার সমাধি আমেদাবাদের সবরমতি আশ্রমের পাশে করা হয়েছে ।

কিছু মজার ব্যাপার হল ,এই যে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় পরিবার থেকে আসা সত্ত্বেও তার নাতি মধুকেসর দেসাই ছাড়া কেউই তার রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্খা ভাগ করেননি । মধুকেসর দেসাই কে জিকিউ ম্যাগাজিন কর্তৃক ২০১৭ সালের জন্য তিনি ৫০জন প্রভাবশালী তরুণ ভারতীয়দের মধ্যে একজন ছিলেন ।



113 views0 comments