top of page
Search

২৩শে এপ্রিল সংখ্যা ।। গল্প ।।সুবীর ঘোষ


রাতের বোষ্টমী

সুবীর ঘোষ

হজরৎপুরের হাট থেকে ফিরছিল বংশীধর । হাতে দু’থলে হাটের দ্রব্য । এত সামগ্রী বংশীধরের লাগে না । কিন্তু এবার লাগবে । কাল তার বাড়িতে দেওয়ানি ভোজ । সারা বছর যে সব মুনিষ মান্দের চাষের কাজে খাটে বছরে একদিন তাদের পেট পুরে খাওয়ানোর নিয়ম চলে আসছে এ তল্লাটের গ্রামে গঞ্জে ।হাতের থলে এ হাত ও হাত বদল করে অনেকটা পথ চলে এসেছে বংশীধর । তার লক্ষ্য ছিল ওই অর্জুন গাছের ছায়াটা । মিনিট দশেক যদি বসা যায় । হাতের আরাম হয় । পা দু’টোকেও একটু বিশ্রাম দেওয়া যায় । আর সব থেকে বড় কথা হল অনেকক্ষণ ধরেই তার বিড়ির তৃষ্ণা পেয়েছে । দু’হাত আটকানো বলে বিড়ি ধরাতে পারেনি । গাছের নীচে পা ছড়িয়ে বসে ওই সুখ সে উপভোগ করতে চায় । কাছে আসতেই বংশীধর বুঝতে পারে গাছের ছায়া দখল করে ইতিমধ্যেই একজন বসে আছে । তা থাকুক , গাছের ছায়া তো কারোর কেনা নয় । যতক্ষণ ছায়াতে টান না পড়বে ততক্ষণ যতজন খুশি বসতেই পারে । আর একটু কাছে আসতে বংশীধর বুঝতে পারে উপবিষ্ট পথিক এক নারী । হতেই পারে । হজরৎপুরের হাটের এ তল্লাটে বেশ নামডাক । দূর দূর গ্রাম থেকে অনেকেই আসে । শুধু কী তরকারিপাতির খোঁজে , আসে কাস্তে কোদাল গাঁইতি শাবল বঁটি কিংবা আয়না চিরুনি আলতা সিঁদুর ধুতি গেঞ্জির সন্ধানেও । অর্জুন গাছের কাছে এসে গতি থামায় সে ।

যে বসে আছে তাকে বিলক্ষণ চেনে বংশীধর । মায়া বোষ্টমী । গোঁসাইডাঙায় থাকে । হজরৎপুর থেকে ময়নাসোল যাবার মাঝখানে বৈষ্ণবদের আখড়া । বেশ কয়েকজন বৈষ্ণববৈষ্ণবীর বাস সেখানে । তাদের মধ্যে অনেকেরই পূর্বাশ্রমে নানারকম গলদ থাকে । কেউ অবৈধ প্রেমে লিপ্ত হয়ে লোকলজ্জায় সংসারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে । কেউ যৌন-অক্ষম । কেউ বা বড়ো সংসারের আর্থিক ভার সামলাতে না পেরে নিরুদ্দেশ হয়ে যায় । ভিক্ষাই তাদের জীবনধারণের উপায় । তবে শুকনো একতরফা ভিক্ষা নয় । বিনিময়ে তারা গান শোনায় । কেউ গান শুনতে শুনতে ‘কাজ আছে’ বলে চলে যায় । কেউ বসিয়ে একটা দুটো বাড়তি গান শোনে । বাড়তি চাল-আলুটাও পাওনা হয় । নগদ পয়সা কম মেলে । তবুও আসে না একেবারেই তা নয় । সাদাই তাদের একমাত্র রঙ । সাদা ধুতি গেঞ্জি বোষ্টমদের । বোষ্টমীদের সাদা থানের কাপড় ব্লাউজ । গলায় কণ্ঠী । কপালে রসকলি । হাতে কর্তাল । বোষ্টমদের কাঁধে অনেকসময় শ্রীখোল দেখা যায় ।

মায়া বোষ্টমী চেনা মানুষ । কথা কইতে বাধা নেই । বংশীধর হাতের বোঝা নামিয়ে বলে ওঠে----কী গো বোষ্টমী হাট কইরে হাঁপাই গ্যালে না কি ? যা তাত আইজকে ! ব্যেলা দশটা তো লয় , যেন ভত্তি দুফর ।

মায়া বলে ওঠে ---- ভাইবলম অ্যাকটু বসি । জিরোই । কিষ্ণনাম লিয়ে টুকচি দোক্তা মুখে ফেলি ।

----ভালো ভালো । কথায় বলে---- গাছের ছায়া , মায়ের মায়া ।

তুমি খাও দোক্তা

আমি বিড়ি ভোক্তা

তুমি মায়া গোঁসাইন

আমি বাঁশি সুরহীন ।

মায়ার চোখ দুটো চক চক করে ওঠে । গাল দুটো একটু ফুলিয়ে অভিমানের মতো করে বলে ওঠে----

ঈশ্বর কী সবাইকে সুর দেয় হে । যে পায় সে পায় । সুর নাই তো কী হঁইছে ? তুমরা গান বাঁধো । তুমি কবি । তুমার হাতে কাইব্য হয় । কাইব্যদেবী সরস্বতী তুমার সহায় ।

তা ঠিক । বংশীধর ছোটবেলা থেকে মুখে মুখে ছড়া কাটত----

নিতাই করে তাই তাই

কানাই বলে নাই নাই

তুর বাগানের জলপাই

মুনটো বলে খাই খাই ।

প্রসঙ্গান্তরে যায় মায়া । পাশে বসিয়ে রাখা দুটো চটের থলের দিকে তাকিয়ে সে বলে ওঠে ----কত তরকারি খাও হে সখা । এত হাট টাইনছ দুটো হাতে । আবার তো ছামু শনিবার হাট আছে ।

---- ছামু শনিবারে হবেক নাই যে । কাল দেওয়ানি ভুজ আছে । মানুষ জন খাবেক । বেবস্থাটো তো পাকা করা চাই ।

---- তা চাই । ভুজ বইলে কথা । তুমরা তা ধর ক্যানে একঘর সুমত্থ চাষি ।

প্রশংসায় কান দেয় না বংশীধর । বিড়ির আর একটা সুখটান দিতে বাকি । তারপরই উঠে পড়ার মতলব তার । বোষ্টমীর সঙ্গে বকরবকর করে তার তো দিন যাবে না । তবু শেষ কথার সুর এনে বলে ওঠে ---- অতিথি নারায়ণ । দরিদ্র নারায়ণ । উদের ভুজ খাওয়ানো মানে নারায়ণের সেবা করা ।

----ঠিক কথা বইললে একখান । কিষ্ণ কিষ্ণ হরি হরি । এই বলে সে তার কর্তালজোড়া এক করে ধ্বনি তোলে আর গেয়ে ওঠে----

বিন্দাবনের পথে ডাকে কিষ্ণসখা হে ।

আমি জেতে নারী যেতে নারি কী করে যাই যে ।।

আরো গুনগুন করে গাইতে যাচ্ছিল গোঁসাইডাঙার বৈষ্ণবী । বংশীধর অনুপ্রবেশ করে বসে----বড় মধুর পদ । শুনে খুব সুখ । কাল এসো না গো বোষ্টমী দেওয়ানি ভুজে ।

----গান শুইনবার টাইম হবেক তুমার ?

----হঁ তো আমার কাজ কী ! রাঁধুনিতে রাইন্ধবেক , উরা খাবেক বাস্ । আমি চুপ কইরে তুমার কিষ্ণভজনা শুইনব ।

এই বলে বংশীধর উঠে দাঁড়ায় । উঠতে গিয়ে পায়ের আঙুলে খোঁচা লেগে একটা চটের থলে উলটে যায় । আর তার থেকে ঝুলি-ছেঁড়া বেড়ালের মতো বেরিয়ে যায় দুটো কালো বেগুন । বোষ্টমীর চোখ এড়ায় না । সে তখনও বসে বসে দোক্তা চেবায় । এবং বলে ----বেগুনটো ভালো কিন্যেছ , বন্ধু । আমি তো ভালো বেগুন কুথাও দেখলম না ।

বংশী উত্তর দেয়----তুমি গুটা হাটটো মন দিয়ে ঘুর নাই । পছি দিকের হ্যালা বটতলার ছিঁয়াতে একটো লুক ছিল এই বেগুনগুলা লিয়ে । কেঁদগড়ের বেগুন । খুব মিষ্টি ।

--- বোষ্টম কদিন থেকেই বেগুন বেগুন কইরছিল । বইললেক ----কত্ত দিন বেগুনপুড়া দিয়ে মুড়ি খাই নাই ।

---- তা খাওয়াও কেনে তুমার বোষ্টমকে বেগুনপুড়া দিয়ে মুড়ি ।

---- অ হরি ! কী কইরে খাওয়াব । বেগুন তো কিনিই নাই ।

----নাই বা কিনলে । আমি দুব একটো বেগুন ।

----তুমি ! তুমার ঘরে ভুজ । ভুজে কম পইড়বেক নাই ?

----উ ম্যানেজ হঞ্জাবেক ।

---- তবে দাও । তুমার দিতে যখন প্রাণে এত সাধ ।

মায়াও উঠে পড়ে । পাছকাপড়ের ঘাসের বীজ ঝেড়ে ফেলে চটাংপটাং করে হাতের চেটোয় । তারপর তারা একসঙ্গে পথ হাঁটে । বোষ্টমী বলে ----

বংশীধর বংশী বাজায় মনে বেঁধায় তীর

কিষ্ণ আমার গাছের ছায়া কিষ্ণ আমার নীড় ।

----আহা বড়ো ভালো গাইলে গো বোষ্টমী । ই গান কী এক আধটোয় মন ভরে । মন বলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা শুনি ।

---- তা শুন না কেনে । একদিন এস্যো না গোঁসাইডাঙায় ।

গোঁসাইডাঙায় তার যাওয়া হয় না । একথা আগেও একবার হয়েছিল । সেকথা বংশীধর জানিয়ে ফেলে তার বউ আরতিকে । নারী যে নারীর শত্রু সেকথা জানা থাকলেও সে অন্তত এই ক্ষেত্রে ছাড় আশা করেছিল । ‘বোষ্টমীকে লিয়ে কী ভয়?’ আরতিকে বলতে যেতেই আরতি খেঁকিয়ে উঠেছিল ----‘ না , বোষ্টমী বলে সে তো মেয়েছেলে লয় । তার শরীলে পুরুষ বাঁধার রশি নাই?’

বংশীধর ভেবে দেখে । তাই তো । বোষ্টমীও তো নারী । সংসারের নারী পুরুষকে যা যা দিতে পারে আখড়ার নারীই বা তা পারবে না কেন ? প্রকৃতি তো দুজনের জন্যে প্রভেদ কিছু করেনি । আরতি বারণ করেছিল । কিছুতেই যাবে না । ওরা দিনে বোষ্টমী , রাতে যোগিনী । নানারকম যোগমুদ্রায় তোমাকে বশ করে নেবে । তারপর তোমার আর সংসারে মন টিকবে না । খালি মনে হবে কখন যাই আখড়ায় । আখড়ার মাটি খুব অপয়া । স্বামীকে স্বামী বলে মানে না । পুত্রকে পুত্র বলে চিনতে পারে না । সংসার মানে বিষ ।

আরতির এই সব শোনা কথা এবং তাতে তার বিশ্বাসে জল ঢালবার ক্ষমতা বংশীধরের নেই । সেজন্য সে চুপ করে থাকে । আগেও তার গোঁসাইডাঙা যাওয়া হয়নি । এবারও হবে না সে জানে ।

চলতে চলতে পথ পেরোয় । মায়ার সঙ্গে হাঁটতে গেলে বংশীধরকে পায়ের গতি একটু কমই রাখতে হয় । আরতি যা-ই বলুক মানুষটাকে খারাপ লাগে না তার । তবু সংসারে শান্তি রাখতে গেলে তার কথা তোলা চলবে না এটা বংশী বুঝে গেছে । আরতির কাছে মায়া আর পাঁচটা খঞ্জনি বাজানো ভিখিরি ছাড়া আর কিছু নয় । গান গাইতে গাইতে আসে । চালটা আলুটা নিয়ে চলে যাবে ব্যস এই পর্যন্তই যা সম্পর্ক । বংশীধর মায়ার মুখের দিকে তাকায় । মায়াবিনী বলে তো মনে হয় না । বলা যায় না ---- ভয়ানক হয়ে উঠতে কতক্ষণ ! নারী চরিত্র ঠাকুরদেবতাও বুঝতে পারে না । মায়াবিনী বলে মনে না হলেও নারী নারী মনে হয় । ঐ চামড়ার টানটান বাঁধুনিতে , ঐ দুটো চোখের কাজল নদীর জলে , ঐ শরীরের উত্তর থেকে দক্ষিণ পথে হাওয়ার শনশনানির মধ্যে কোথাও যেন একটা নিশিডাক লুকোনো আছে । আরতি কাছে নেই । আরতি দেখছে না । বংশীধর পথ চলে আর পাশ ফিরে ফিরে মায়াকে দেখে । মায়া কী বুঝতে পারে তাকে কেউ দেখছে ! মায়া বোঝে । বলে না কিছুই । সব নারীই এসব বোঝে । যা কেউ বোঝে না তা নারী বোঝে । যা সবাই বোঝে তা নারী বোঝে না । নারী চরিত্র বেজায় জটিল । মায়া তো তাই ভরা অজয়ে ঝাঁপ দিতে গেছিল । পারেনি । জলে কৃষ্ণের ছায়া । দ্রৌপদীকে বিবস্ত্র করতে পারেনি দুর্বৃত্তেরা কৃষ্ণ ছিলেন বলেই না । রাখে কৃষ্ণ মারে কে ! সখাকৃষ্ণ ভগবান । মায়া বংশীধরকে বলে ----

তুমার ঐ গোষ্ঠমেলার পদ্যটো শুনাও না কেনে ।

সেকথা বংশীধর কানে তোলে না । কিন্তু শোনায় অন্য একটা----

মায়া তো নয় মায়াবিনী

মনের ভিতর বনহরিণী

(ও) তারে ধরি ধরি মনে করি

ধরতে গেলাম আর পেলাম না

(ও) তার চোখের ভিতর বইছে দ্যাখো

খরস্রোতা এক তটিনী ।

মায়া অচঞ্চল থাকে । বংশীধর মায়ার অসাড় অবস্থা কাটাতে চেয়েছিল । চেয়েছিল সে অস্থির হোক্ । প্রতিবাদ করুক । মায়া ভালোমন্দ কিছুই বলে না । কিন্তু আবদার শেষ হয় না তার । 'গোষ্ঠমেলারটো শুনালে না হে' । বংশীধর এবার আর তাকে বঞ্চিত করতে চায় না ----

গোষ্ঠমেলায় যেয়ে দেখি মূর্তি বলরাম

কৃষ্ণ আমার প্রাণের ঠাকুর গোষ্ঠ আমার ধাম ।

পথ চলে দুজনে । পথ চলতে চলতে এসে যায় শীতলমুখী কাঁদর । মায়া তাকে বিদায় দেয় । সে আর এগোয় না । কাঁদরের জলে হাঁটু ডোবানো তার ।

----তুমি যাও গো সুজনসখা । আমি একটো ডুব দিয়ে আসছি ।

ডুব মানে স্নান । স্নান সারতে যায় মায়া । ইচ্ছেকে পোষ মানায় বংশীধর । রমণীর স্নান দেখতে নেই । একমাত্র তা দেখতে পারেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ।


কয়েকমাস পরের কথা । শরৎ প্রায় শেষ । হেমন্ত ঢুকি ঢুকি । কুটুমবাড়ি সেরে ফিরছিল বংশীধর । পলাশস্থলীর ট্রেন । সময়মতো পৌঁছে গেলে প্রথমরাতেই ঘরে ফেরা যেত । কিন্তু রাস্তায় গাড়ির ইঞ্জিনে গোলমাল হয় । বর্ধমানে খবর গেল । নতুন ইঞ্জিন এনে গাড়ি চালু করতে বেশ দেরি হয়ে গেল । চেনা রাস্তা । হল্ট স্টেশন থেকে নেমে বাড়ি অন্তত চল্লিশ মিনিটের হাঁটাপথ । ভয় কিছু ছিল না । সঙ্গে টাকা পয়সা নেই , সোনাদানা নেই । কিন্তু নির্জনতার একটা ভয় বংশীধরের সঙ্গে থেকেই যায় । ভূতপ্রেত আছে কী নেই সে জানে না । এত রাতে তো সে নির্জন পথে আগে কোনোদিন হাঁটেনি । হল্ট স্টেশনে এপথের যাত্রী একজনও যদি থাকত কথা বলতে বলতে পথটুকু ফুরিয়ে ফেলা যেত । তবু মুখে রামনাম আর বুকে ধুকপুকুনি । তবে ভরসা একটাই ---- শুক্লপক্ষ । হেমন্তের কুয়াশা এখনও ধরণীতে নামেনি । আকাশ-ভাসানো জ্যোৎস্না । কিন্তু অন্ধকারের থেকেও জ্যোৎস্না যে আরো ভয়ঙ্কর তা এই প্রথম বুঝল বংশীধর । বনজ্যোৎস্না মায়াময় । মৃত্যুমুখী । ফুটফুটে পরির মতো যেন সে প্রকাশ্যে গলা দাবাতে আসে ।

কিছুটা দূরে খসখস আওয়াজ । বংশীধর কান পাতে । বনপথে সাপ বা অন্যান্য সরীসৃপ গেলে পাতার আওয়াজ এরকম হয় । আবার হয় শব্দটা । আবার । প্রায় দাঁতে দাঁত লেগে যায় বংশীধরের । নিশ্চয় কোনো অপদেবতা । জ্যোৎস্নার মনোরম অবকাশে লীলা করতে নেমেছে । একটা গাছকে আড়াল করে দাঁড়িয়ে পড়ে সে । দম নেয় । শ্বাস স্বাভাবিক করার দুরন্ত চেষ্টা করে । কোথায় যেন মানুষী কণ্ঠের মৃদু মৃদু ধ্বনি জেগে ওঠে ---

আমার শরীর জুস্না দিয়ে

ধুয়ো প্রাণসখা

নদীর চরে চখীর উপর

ভরটি রাখে চখা ।

কী মারাত্মক এ কথা ! এত রাতে কে বলে এ সর্বনাশের কথা । কণ্ঠটি যে বড় চেনা চেনা তার । মায়া বোষ্টমী । চোখ ঘোরায় সে শব্দভেদী বাণের মতো । পেয়ে যায় । ঐ তো শীতলমুখী কাঁদরের বালির ওপর মায়া । নির্মোহ । দয়া নেই মায়া নেই । নিজেকে নির্মমভাবে খুলে দিয়েছে সে এত রাতের নির্জনতায় । বংশীধর এগুতে পারে না । এত নগ্নতার নদী কী সে শেষ পর্যন্ত সাঁতরে পার হতে পারবে !



30 views0 comments

Comentários


bottom of page